বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা এলাকার প্রথম নারী শিক্ষক মমতাজ বেগম (৬৪) আর নেই। বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আজ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার চরকৃষ্ণপট্টি গ্রামে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো জ্বালাতে শত বাঁধা পেরিয়ে শিক্ষকতাকেই তিনি ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। সমাজ সংসারের কোন বাঁধাই তাঁকে দমাতে পারেনি। ২০১৩ সালে শিক্ষক দিবসে এই শিক্ষককে নিয়ে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
১৯৫৬ সালের ৬ মার্চ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের চরকৃষ্ণপট্টি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে মমতাজ বেগম জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরহুম আলী হোসেন মোল্লা। ১৯৬৮ সালে মমতাজ যখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী, তখন পারিবারিক ইচ্ছায় পাশের চরবালিয়াকান্দি গ্রামের কালু শিকদারের ছেলে স্কুলশিক্ষক আব্দুল আজিজ শিকদারের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামীর অনুপ্রেরণায় ঘরসংসারের পাশাপাশি গৃহবঁধূ মমতাজ বেগম তাঁর লেখাপড়া চালিয়ে যান। ১৯৭২ সালে স্থানীয় বরাট ভাকলা হাই স্কুল থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন। ওই বছরই তিনি এলাকার বালিয়াকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন অবৈতনিক সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন। সে সেময় একজন নারীকে স্কুলশিক্ষক শিক্ষক হিসেবে সমাজের অনেকেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তবুও এলাকার শিশুদের ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন নিয়ে শত বাঁধা উপেক্ষা করে এগিয়ে চলেন মমতাজ বেগম। ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারা দেশে প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেন। সেই সুবাদে এলাকার বালিয়াকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিও সরকারিকরণ হয়। এতে স্বপ্ন বাস্তবায়নের দরজা খুলে যায় মমতাজের।
কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে শিক্ষার মশাল হাতে নিয়ে মনের আনন্দে পথ চলতে থাকেন মমতাজ। শিক্ষকতা জীবনে কোনদিন তিনি ক্লাস ফাঁকি দেননি। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া পাওনা ছুটিও তেমন ভোগ করেননি। ঝড়, বৃষ্টি, বণ্যার মতো বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও তিনি নিয়মিত ছুটে গেছেন স্কুলে। সেখানে মায়ের মমতায় শিশুদের আগলে রেখে তিনি তাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। অদম্য ওই স্কুল শিক্ষক মমতাজ বেগম ২০১৪ সালের মার্চ মাসে অবসরে যান।
শিক্ষকতার পাশাপাশি মমতাজ বেগম পারিবারিক জীবনেও একজন আদর্শ গৃহিনী ছিলেন। নিজ ছেলে মেয়েরা প্রতিষ্ঠিত হলেও মমতাজ বেগমের চিন্তা ছিল এলাকার সকল শিশুদের নিয়ে। তাই শত বাঁধা পেরিয়ে ঘরে ঘরে শিক্ষার আলো জ্বালাতে ক্লান্তহীন ভাবে আমৃত্যু তিনি পথ চলেছেন।
নগরকন্ঠ.কম/এআর